এক সপ্তাহ পর আবারও দুইবার ভূমিকম্পে কাঁপল সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২৩ পিএম, ০৭ জুন ২০২১

সিলেটে আবারও দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ ৭ জুন সন্ধ্যা ৬ টা ২৯ ও ৩০ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে করে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। নগরের লোকজন ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে রাস্তায় নেমে আসে।

তবে প্রাথমিকভাবে সিলেটের আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা সম্পর্কে তথ্য জানাতে পারেনি।

এর আগে গত গত ২৯ মে ভূমিকম্পের পর থেকেই সিলেটজুড়ে ভূমিকম্প আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরপর দিন ৩০শে মে সিলেটে ৪ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সেদিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে প্রথম দফা, ১০টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে দ্বিতীয় বার, ১১টা ৩০ মিনিটে তৃতীয় বার এবং ১টা ৫৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে চতুর্থ বার কম্পন অনুভূত হয়।

ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মুমিনুল ইসলাম বলেন, রিখটার স্কেলে সোমবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৩ দশমিক ৮। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৮৮ কিলোমিটার দূরে সিলেটে।

বিশেষজ্ঞের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আগে বা পরে এমন ছোট ছোট ভূকম্পন অনুভূত হয়। ফলে ভূমিকম্পের ডেঞ্জারজোন হিসেবে পরিচিত সিলেটে বড় ধরণের ভূমিকম্পের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেটে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নগরীর সব ভবনকে ভূমিকম্প প্রতিরোধক করা। এজন্য নতুন ভবন নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির ধরণের উপর নির্ভর করে ভবনকে একতলা বা বহুতল করতে হবে। জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইনে এবং মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে দালান তৈরি করতে হবে। আর পুরনো দুর্বল ভবনগুলোকে সংস্কার করে শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। সম্ভব না হলে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে কোন অবস্থাতেই ভবন নির্মাণ করা যাবে না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালে সর্বশেষ সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ব্যাপারে জরিপ চালানো হয়েছিলো। এতে ৩২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গত ২৯ মের ভূমিকম্পের পর এই ভবনগুলোর মধ্যে ৭টি বাণিজ্যিক ভবন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিলেটে প্রায় ৭০ হাজার হোল্ডিং আছে। এরমধ্যে সাত তলার উপরে ভবন আছে অন্তত ৪শ’ টি। সিটি করপোরেশনের হিসেবের বাইরেও আরও অনেক বহুতল ভবন আছে। এখন আবার বহুতল ভবনগুলোর ব্যাপারে জরিপ চালানো উচিত।

তিনি আরও বলেন, নগরের বহুতল ভবনগুলো ভূমিকম্পসহনীয় কী না তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা দ্রুতই সে উদ্যোগ নেবো। সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আমাদের পক্ষে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। তবে যে ভবনগুলো ভূ’মিকম্পসহনীয় নয় সেগুলোর সামনে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেবো।

আপনার মতামত লিখুন :