নওগাঁ পত্নীতলা গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য দুটি গ্রাম

ভয়েস অফ ইনসাফ ডেস্কভয়েস অফ ইনসাফ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩৮ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২২

মাহাবুব আলম রানা স্টাফ রিপোর্টারঃ

পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে পুলিশের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ও ভোটের সরঞ্জামে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য দুটি গ্রাম। গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হয় নওগাঁর পোরশা, সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলার ২৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।

ওই দিন সন্ধ্যায় পত্নীতলা উপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নে দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষনা না দিয়ে উপজেলায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানার সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ও ভোটের সরঞ্জামে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ফারজানা পারভীনসহ ১১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও আড়াই হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেন পুলিশ।

ওই মামলায় স্বতন্ত্র প্রাথী ফারজানা ও তাঁর স্বামী মতিউর রহমানসহ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে পূরুষ শূন্য ঘোষনগর ও কমলাবাড়ি গ্রামসহ আশপাশের গ্রাম। এরি মধ্যে নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কারী ফারজানা পারভীনের গ্রামের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কমলাবাড়ি গ্রামে রাত ১২ টার দিকে হঠাৎ করে ফারজানা পারভীনের বাড়ির গ্যারেজে আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। আগুন দেখে গ্রামের নারীরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘন্টা পর পত্নীতলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

তাঁরা প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাড়ির পাঁচটি মোটরসাইকেল, আসবাব, ধান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফারজানার মেয়ে সিঁথি আক্তার বলেন, বুধবার পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার মা নৌকার বিদ্রোহী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকার প্রার্থী আবু বকর সিদ্দীক।

ভোটের দিন সন্ধ্যায় ঘোষনগরের একটিকেন্দ্রে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আমার মাকে প্রধান আসামি করে করে থানায় মামলা করে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার আমার মা ও বাবা মতিউর রহমানসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও আড়াই হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

বর্তমানে পুরুষশূন্য হয়ে গেছে আমাদের গ্রামসহ আশে পাশের কয়েকটি গ্রাম। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, গ্রেফতারের নামে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছেনা।আসামি গ্রেফতারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। পরবর্তীতে যাতে আর কোন ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেজন্য ওই গ্রামে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :