নীরবেই চলে গেলো আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

নুর আহমেদ সিদ্দিকীনুর আহমেদ সিদ্দিকী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আজ আল্লামা শফি রহ এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গেল বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে রবের সান্নিধ্যে চলে যান এই মহা মনীষী। বাংলাদেশের যুগশ্রেষ্ট আলেমদের একজন হলেন আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ।যার মৃত্যুতে বাংলাদেশে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া।যিনি ছিলেন বাংলাদেশের আলেম ওলামার মাথার তাজ এবং ইসলামপন্থীদের পিতৃতুল্য অভিভাবক।অথচ তাঁর প্রথম মৃত্যুতে বার্ষিকীতে তাঁর হাতে গড়া হেফাজতে ইসলামের কোন স্মরণসভা বা দোয়া মাহফিল যেমন ছিলনা, ছিলনা তাঁর আমৃত্যু খেদমতে থাকা হাটহাজারি মাদরাসার কোন দোয়া অনুষ্ঠান।কিংবদন্তি এই মহানায়কের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী নীরবে নিভৃতে চলে যাওয়া ইসলামপন্থীদের জন্য আফসোস ও লজ্জার।যারা হযরতকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা অর্জন করেছেন তারাও আজ নিরব দর্শকের ভূমিকায়।বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে আল্লামা শফি রহ ছিলেন অগ্রগণ্য। অথচ আজ তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে কেউ একটি দোয়া মাহফিল পর্যন্ত করেনি।

তিনি হাটহাজারি মাদরাসার মহা পরিচালক ছিলেন, ছিলেন হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমী বাংলাদেশ এবং বেফাক শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান ।নিজ হাতে গড়েছেন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।যিনি ছিলেন নাস্তিক বিরোধী আন্দোলনের সিপাহসালার।যার ডাকে রাজপথে নেমে এসেছিল লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা।প্রিয় নবীর শানে নাস্তিক মুরতাদের কটুক্তির বিচার দাবিতে ২০১৩ সালে হাটহাজারি মাদরাসার দরস থেকে রাজপথে নেমে এসেছিল যুগের কিংবদন্তি আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ।যার ডাকে পঙ্গপালের ন্যায় ঢাকার রাজপথে ছুটে এসেছিল নবী প্রেমি জনতা।যার হুংকারে নাস্তিক মুরতাদদের কবর রচিত হয়েছে।যার ডাকে আবাল বৃদ্ধ বণিতা শাহাদাতের তামান্না নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল।সেই মহান কিংবদন্তির ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষীরা নীরবে দিনটি পার করে দিলেন।এটা সত্যিই হতাশার। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফের মৃত্যু বার্ষিকীতে কোন নেতা কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি এবং সাংবাদিকরা হতাশ হয়ে ফিরে আসা নিয়ে ইসলামপন্থীরা বস্তুবাদীর রাজনীতির ফল বলে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল।অথচ আল্লামা শফি রহ এর মত যুগ শ্রেষ্ট আলেমদীন এর মৃত্যুবার্ষিকীতে কোন স্মরণ সভা বা দোয়া মাহফিল হয়নি তা নিয়ে সবাই চুপচাপ।

দুনিয়াবী নেতা আর আলেমদের পার্থক্য কোথায় রাখলেন? যারা আল্লামা শফি রহ এর দরদী সেজে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে বিচার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে করেছিল সেই মাওলানা রুহি,মুফতি ফয়জুল্লাহ ও তাঁর দুই সন্তান আজ কোথায়? তাদের সেই মায়াকান্না কি আসলেই লৌকিকতা ছিল? জনমনে সত্যিই আজ সন্দেহে জাগছে।যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আমির ছিলেন আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ সেই সংগঠন থেকে তাঁর স্মরণে কোন দোয়ার আয়োজন না করা তার কৃতিত্ব ও অবদানকে অস্বীকার করার শামিল। যিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ এর ছাত্র ও খলিফা।যারা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল আজ মহান রবের কাছে তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।সাথে সাথে বাংলাদেশের শ্রেষ্ট আলেমেদীন,ইতিহাসের মহানায়ক আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।সাথে সাথে মহান আল্লাহর দরবারে কায়মানো বাক্যে প্রার্থনা করছি যেন জান্নাতে সর্বোচ্চ সম্মানের আসনে আসীন করেন।

লেখকঃ নুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :