ভিপি নুরের দল ও আমার ভাবনা : ড. ফয়জুল হক

ভয়েস অফ ইনসাফ ডেস্কভয়েস অফ ইনসাফ ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০০ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১


ড. ফয়জুল হক: যে কেউ যে কোন দল বা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার অধিকার রয়েছে! অবশ্য ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত এদেশের গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা মোটেই ছিলোনা। এদেশে প্রথম বাকশাল থেকে বহু দলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অবশ্য বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই বল্লেই চলে। বাকশালীরাই আবার নতুন করে বাকশাল প্রতিষ্ঠার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে! ভোট বিহীন গত ১৩ বছর সমগ্র দেশ আজ গণঅধিকার বিচ্ছিন্ন জাতিতে রুপ নিয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষ যখনই কেউ ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছে, আওয়াজ তুলেছে তার পক্ষে সবাই সমর্থন দিয়েছে। ভিপি নুরের উত্থান হয়েছে বাকশাল বিরোধী মানুষের অকুন্ঠ সমর্থনের কারণে। তিনি তার সৎ সাহসিকতার মাধ্যমে ছাত্র জনতার ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন দ্রুতই। ছাত্রদের মধ্যে যা সমসাময়িক সময়ে কেউ অর্জন করতে পারেনি। আমার সাধারণ বিশ্লেষনে যা মনে হয়েছে তা হলো;ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, গোপনে কার্যক্রম চালানো ছাত্র শিবিরপন্থী ছাত্র ছাত্রী, হেফাজতপন্থী, ইসলাম ও সাধারণ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছাত্র সমাজের ভূমিকার কারণেই আজকের এই অবস্থায় ভিপি নুরের অবস্থান। ভিপি নুর তার আদর্শ যতোদিন গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ, ইসলামী মুল্যবোধের পক্ষে থাকবে ততোদিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু কোন দালাল গোষ্ঠী, সরকার দলীয় গোপন মদতপুষ্ঠ সংগঠন বা বিদেশীদের কারো প্ররোচনায় দল প্রতিষ্ঠা বা দলের শীর্ষে পূর্ব পরিচিত আওয়ামিলীগ বা গনফোরামের নেতৃত্ব দিয়ে দল প্রতিষ্ঠা করলে জনগনের আস্থার ভাটা পরবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।

এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ও ধর্ম কর্মের পক্ষে অবস্থান নিলে তাদেরকে আকাশে তুলেও ভালোবাসবে, আবার নীতির পরিবর্তন হলে একদম তলাবিহীন ঝুড়িঁতে নিক্ষেপ করতেও ভয় পায়না। বাংলাদেশের মানুষ দুই বড় দল ও দুএকটি বড় ইসলামি দলের বাহিরে যাওয়া এখনো পছন্দ করেনা। তার পরেও শত শত দল থাকাও অন্যায় নয়।জনগন সত্যিকার ভালো লিডারশিপ পেলে তাতে ঝুকতে পারে! কিন্তু আমার দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,নুর সাহেব যাদের নাম নিয়ে রাজনীতির ময়দানে যাত্রা শুরু করছেন,তাদের অতীত সোনালী নয়। ব্যক্তি অনেক বড় হতেই পারে কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানে তাদের কোন স্থান নেই বল্লেই চলে। বামপন্থী মানুষ দিয়ে বড় কোন দলের দালাল বা ক্ষমতার ভাগীদার হয়ে ১/২ টি এমপি নেয়া যাবে কিন্তু জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবেনা। এবং জনগনও আপনাদেরকে মুল্যায়ন করবেনা।

ধার করে যেই দলে নেতৃত্ব তৈরি হবে তা কখনোই জনগনের হয়না। জনগনের নেতা থেকেই বঙ্গবন্ধু, শহীদ জিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতা হয়েছেন। ভিপি নুরেরাও বয়সের সাথে সাথে সঠিক পথে ও মানুষের আবেগ বুঝে চলতে পারলে জাতীর কাছে সম্মানীত থাকতে পারতেন বা বৃহত্তর পরিসরে নেতৃত্ব দিতে পারতেন!! এদেশেই ইমরান এইচ সরকাররা জন্ম নিয়েছিলো, কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ তারা হারিয়ে গিয়েছে। দেশ ও ইসলামের আবেগের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় হলেও জনগন তাদের সময়ের ব্যাবধানে দূরে নিক্ষেপ করেছে। আমি মনে করি বর্তমান সরকার অনেকগুলো ষড়যন্ত্র একেছে,যার মধ্যে আপনারাও তালিকায় আছেন! আপনাদেরকে নেতৃত্বে আনতে সরকার এখন আপনাদের পথটি কিছুটা মসৃণ রাখবে, সময়ের ব্যাবধানে আপনাদের দলের ভিতরে সেট করা দালাল দিয়েই আপনাদেরকে ভেঙ্গে চুরমার করবে, আবার বাহির থেকেও আপনাদেরকে অপমান করবে। যখন চুড়ান্ত অপমান হবেন তখন আপনাদেরকে যারা ভালোবেসেছে তাদেরকেও আর পাশে পাবেননা। চাইলেও আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেননা। তখন আপনারাও কালের পরিক্রমায় বিলীন হয়ে যাবেন।

দেশ যুবকদের নেতৃত্ব চায়, আমিও চাই। আমি আপনাদেরকে হারাতে চাইনা। আমিও চাই আপনারা জনকল্যাণের পথে চলুন। প্রয়োজনে নিজেরাই নেতৃত্বে থাকুন। সময় নিয়ে নেতৃত্ব তৈরি করুন। নীতি ও আদর্শ নিয়ে পথ চলুন। শুরুতে কষ্ট হলেও পরবর্তীতে পথ সুগম হবে, আর এখন বিচক্ষন না হলে সামনের দিনগুলো কঠিন থেকে কঠিন হবে।তাই বলছি সময় থাকতে সাবধানে পথ চলুন।

আপনার মতামত লিখুন :