ভয়েস অফ ইনসাফ এর বর্ষপূর্তি ও আজকের মিডিয়া

ভয়েস অফ ইনসাফভয়েস অফ ইনসাফ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  

বিশে জুলাই দুই হাজার বিশ। অনলাইন সাংবাদিকতায় নতুন আরেকটি নাম যুক্ত হয় ; “ভয়েস অফ ইনসাফ” নামে। গত একটি বছর নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের বিশে জুলাই দুই হাজার একুশে উপনীত। পুরো একটা বছর কেনো ধরনের স্পন্সরশীপ ছাড়া একটা নিউজ পোর্টাল ঠিকে থাকাটাই বড়ো সাফল্য। এজন্য এই পোর্টালের সাথে জড়িত সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, কলাকুশলীসহ সম্পাদনা পরিষদ যেমন কৃতিত্বের দাবী রাখে; সেই সাথে বড়ো কৃতিত্ব তাদের ও যারা এই পোর্টালের পাশে ছিলেন, দর্শক, শ্রোতা, লেখক,কলামিস্ট সর্বোপরি সমর্থন কিংবা উৎসাহ দিয়েছেন।

সবাইকে আজকের এই মহতি দিনে ভয়েস অফ ইনসাফ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একটা রাষ্ট্রের জন্য নির্বাহী বিভাগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি সঠিক তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে একটা রাষ্ট্রের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জনগণের প্রকৃত অধিকার এবং স্বার্থরক্ষা অতীব জরুরী। এই তথ্য সরবরাহের কাজটা নির্বিঘ্নে করতে পারার নামই মিডিয়ার স্বাধীনতা। একটা রাষ্ট্রের জন্য স্বাধীন মিডিয়া তার ফুসফুসের মতো। মিডিয়া যতো স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবে গণ অধিকার ততই সুরক্ষিত হবে, এটাই বাস্তবতা। তাই ভয়েস অফ ইনসাফের বর্ষপূর্তির এই দিনে আমাদের প্রত্যাশা, জনগণ ও রাষ্ট্রের মৌলিক চাহিদা পূরণে স্বাধীন মিডিয়া গড়ে উঠুক সর্বত্র।

মিডিয়ার স্বাধীনতার পাশাপাশি কিছু দায়িত্ব, কর্তব্য ও রয়েছে। মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের সেই সব দায়িত্ব পালন করা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য খুবই জরুরী। মিডিয়া যেমন তিলকে তাল বনাতে পারে,ঠিক তেমনি তালকে গায়েব ও করে দিতে পারে। এটা মিডিয়ার শক্তি। কিন্তু কোনো ভাবেই যেনো এই শক্তির অপব্যবহার না হয়; সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

অনেকেই মিডিয়ার অপব্যবহার কে হলুদ সাংবাদিকতা নামে আখ্যায়িত করে। এর পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা খুবই সহজ।তাহলো, যখন মিডিয়াকে ব্যবহার করে সমাজ,রাষ্ট্র, ধর্ম, বর্ণের বিরুদ্ধে একটা গোষ্ঠী বা ব্যাক্তি বিশেষকে আলাদা কোনো সুযোগ তৈরী করে দেয়া হয় ; তখনই প্রশ্ন উঠে মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। এই কাজটা হাল জামানায় অহরহ ঘঠছে। প্রায় সব মিডিয়া প্রকাশ্যে বা গোপনে এমন নৈতিকতা বিবর্জিত কাজের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। তাই বর্তমান সময়ে মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে রয়েছে।

এই ইমেজ পূণরোদ্ধার জরুরী। এই হারানো ইমেজ রক্ষা করতে হলে মিডিয়ার আপডেট দরকার। মিডিয়া হতে হবে জাতির স্বার্থে। দেশের, মানুষের কল্যাণে। নির্ভুল, পক্ষপাতহীন, স্বার্থের উপরে উঠেই তথ্য সরবরাহ করতে হবে।কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়া বন্ধ করা প্রয়োজন। এই কাজটুকু করতে পারলে আশা করি খুব সহজেই একটা ডিপ্লোমেটিক পরিবর্তন সম্ভব। যেই পরিবর্তনের মাধ্যমে একটা টেকসই, সমৃদ্ধ মিডিয়া জগৎ গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কে সামনে রেখে মূলত ভয়েস অফ ইনসাফের যাত্রা শুরু। নির্ভীক সাংবাদিকতা, সঠিক তথ্য সরবরাহ, পক্ষপাতহীন অবস্থানকে ধরে রেখে, ভয়েস অফ ইনসাফ পথ চলতে চায়। সেটা যতো ক্ষুদ্র পরিসরেই হউক, নীতির প্রশ্নে আপোষ না করে জাতির দায়িত্ব, রাষ্ট্রের সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের কর্তব্য।

এই কর্তব্য পালনে প্রয়োজন যেমন দক্ষ, সাহসী কিছু মানুষ,ঠিক তেমনি জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা। পাশাপাশি রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধান। এই তিনের সমন্বয়ে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের মিডিয়া হাউস গুলো দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উন্নয়নের পানে। এই প্রত্যাশা চিরন্তন।

এই কাজ গুলো সহজে বাস্তবায়নের জন্য একটা সমন্বয় জরুরী। সমন্বয়ের পরিধিটা কঠিন ;কিন্তু সম্ভব। এখানে মৌলিক বিষয় গুলোতে রাষ্ট্র, প্রশাসন, জনগণ এবং সুশীল সমাজের ঐক্য খুবই প্রয়োজন। এই প্রতিষ্ঠান গুলো একটা আরেকটার পরিপূরক। সব পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ঐক্যের ভিত্তিতে একটা রাষ্ট্র দারুণ গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। আর এতে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে মিডিয়া। আমরা সেটি ধরনের কার্যকর মিডিয়া চাই এবং সেই চাহিদা পূরণই ভয়েস অফ ইনসাফের উদ্দেশ্য।

পরিশেষে সবাইকে আবারো পবিত্র ঈদুল আযহা ও ভয়েস অফ ইনসাফের বর্ষপুর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানাই।সেই সাথে করোনা কালীন এই মহা সংকটে সবার সুস্থতা কামনা করছি।
আল্লাহ হাফেজ

আপনার মতামত লিখুন :